চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলনা উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চীন থেকে পাইকারি দরে খেলনা আমদানি করে দেশে বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারেন। চীনের বিভিন্ন শহরে বিশ্বখ্যাত টয় হোলসেল মার্কেট রয়েছে, যেখানে মানসম্মত খেলনা কম দামে পাওয়া যায়।

এই ব্লগে আমরা জানব— চীনের কোন কোন বাজার থেকে খেলনা কেনা সবচেয়ে লাভজনক, সেখানে কী পাওয়া যায় এবং কীভাবে সহজে বাংলাদেশে খেলনা আমদানি করা যায়।

চীনের জনপ্রিয় খেলনা পাইকারি বাজারসমূহ

১. Yiwu International Trade City (义乌国际商贸城)

অবস্থান: Yiwu শহর, Zhejiang প্রদেশ

বিশেষত্ব: বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। এখানে হাজার হাজার দোকানে বিভিন্ন ধরনের খেলনা পাওয়া যায়— ব্যাটারি চালিত খেলনা, সফট টয়, শিক্ষামূলক খেলনা, পাজলসহ আরও অনেক কিছু।

মূল্য: খুবই সাশ্রয়ী, বড় অর্ডারে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।

ভাষা ও সুবিধা: ইংরেজি জানা বিক্রেতা ও সোর্সিং এজেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে Yiwu যেতে চাইলে প্রথমে Shanghai Airport এ নেমে বুলেট ট্রেনে Yiwu পৌঁছাতে পারেন। Yiwu-তে Mecaland Hotel অথবা নিকটবর্তী অন্য হোটেলগুলোতে থাকা যায়, যেখানে হালাল ও বাংলাদেশি খাবারও সহজলভ্য।

২. Guangzhou Toys Wholesale Market (广州玩具批发市场)

অবস্থান: Guangzhou শহর

প্রধান বাজার: One Link Plaza (Wanling Toy Wholesale Market) এবং Yidelu Toy Market

বিশেষত্ব: আধুনিক ও ইলেকট্রনিক খেলনা, শিশুদের গেমস এবং ট্রেন্ডিং পণ্য এখানে বেশি পাওয়া যায়। Guangzhou Port থাকায় বাংলাদেশে শিপমেন্ট পাঠানো সহজ ও দ্রুত।

ভ্রমণ টিপস: Line 5 মেট্রোর Taojin বা Xiaobei স্টেশনের কাছে হোটেল বুক করুন। এখান থেকে Yidelu ও Haizhu Square মার্কেট সহজেই ঘুরে দেখা যায়।

৩. Shantou Chenghai Toys Market (汕头澄海玩具市场)

অবস্থান: Chenghai, Shantou শহর, Guangdong প্রদেশ

বিশেষত্ব: চীনের সবচেয়ে বড় টয় উৎপাদন হাব। এখানে ৮,০০০টিরও বেশি খেলনা ফ্যাক্টরি রয়েছে।

পণ্যসমূহ: RC টয়, ড্রোন, শিক্ষামূলক খেলনা, 3D পাজল এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বিভিন্ন পণ্য।

নোট: এখানে সরাসরি ফ্যাক্টরির সাথে ডিল করা যায়, ফলে বড় পরিমাণে অর্ডার দিলে ভালো দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়া সম্ভব।

চীন থেকে খেলনা আমদানির প্রক্রিয়া

  1. একটি বৈধ Import Registration (IRC)TIN নিশ্চিত করুন।
  2. চীনের নির্ভরযোগ্য সাপ্লায়ার বা সোর্সিং এজেন্ট খুঁজে নিন।
  3. পণ্যের MOQ (Minimum Order Quantity) যাচাই করুন।
  4. প্রথমে স্যাম্পল অর্ডার করে মান যাচাই করুন।
  5. পেমেন্ট নিরাপদ মাধ্যমে করুন (যেমন Alibaba Trade Assurance বা ব্যাংক TT)।
  6. শিপিং মোড নির্ধারণ করুন: FOB (Free on Board) বা CIF (Cost, Insurance, Freight)।
  7. বাংলাদেশে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে খেলনা রিসিভ করুন।

চীন থেকে খেলনা আমদানির সুবিধাসমূহ

  • কম দামে উচ্চ মানের পণ্য
  • অসংখ্য ডিজাইন ও নতুন ট্রেন্ড
  • থোক দরে বেশি লাভ
  • নিজস্ব ব্র্যান্ডে (OEM) পণ্য তৈরি করার সুযোগ

বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • সবসময় ভেরিফায়েড সাপ্লায়ার থেকে কেনাকাটা করুন।
  • শুধু অনলাইন নয়, Yiwu বা Guangzhou মার্কেট পরিদর্শন করে নতুন ডিজাইন দেখুন।
  • স্থানীয় সোর্সিং এজেন্টের সহায়তা নিন।
  • বড় অর্ডারের আগে সবসময় স্যাম্পল টেস্ট করুন।

আপনি যদি বাংলাদেশে খেলনার ব্যবসা শুরু করতে চান বা ব্যবসা বাড়াতে চান, তাহলে চীন থেকে সরাসরি খেলনা আমদানি করা একটি লাভজনক ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। Yiwu, Guangzhou এবং Shantou-এর বাজারগুলো বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিচ্ছে।

চীনের খেলনা বাজার আপনার ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে — মানসম্মত পণ্য ও সাশ্রয়ী দামে।

আমাদের সেবা সমূহ

  • চীনা সরবরাহকারীদের থেকে পণ্য সোর্সিং ও কেনাকাটা
  • নিরাপদ পেমেন্ট সহায়তা
  • Door-to-Door শিপিং সার্ভিস (চায়না থেকে বাংলাদেশ)
  • কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও ইম্পোর্ট সহায়তা
  • ইম্পোর্ট পরামর্শ সেবা নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য

চীন থেকে খেলনা আমদানি,
চায়না টয় হোলসেল মার্কেট,
Yiwu টয় মার্কেট,
Guangzhou টয় মার্কেট,
Shantou টয় মার্কেট,
বাংলাদেশ খেলনা আমদানিকারক,
চায়না থেকে পণ্য কেনা,
toy import from china to bangladesh

Leave A Comment